একই জেলায় দুটি ১০৮ শিব মন্দির, বাংলার এই বিস্ময়কর স্থাপত্যের ইতিহাস জানেন কি

একই জেলায় দুটি ১০৮ শিব মন্দির, বাংলার এই বিস্ময়কর স্থাপত্যের ইতিহাস জানেন কি

NEWS DESK : পূর্ব বর্ধমান জেলার স্থাপত্যশৈলী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো ১০৮ শিব মন্দির। ভারতের বিরল এই গৌরবময় স্থাপত্যের দুটি বিশেষ ক্ষেত্রই অবস্থিত বাংলার এই জেলায়। বর্ধমান রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত নবাবহাটের জ্যামিতিক বিন্যাস এবং কালনার বৃত্তাকার ‘নবকৈলাস’ মন্দির আজও পর্যটক ও গবেষকদের কাছে এক পরম বিস্ময়।

১৭৮৮ সালে মহারানি বিষণকুমারী বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে নবাবহাটে এই আয়তাকার মন্দির প্রাঙ্গণটি নির্মাণ করেন। এখানে আটচালা শৈলীর ১০৮টি সাদা মন্দিরে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। অন্যদিকে, ১৮০৯ সালে মহারাজা তেজচন্দ্র বাহাদুর কালনায় তৈরি করেন আরও জটিল ও আকর্ষণীয় স্থাপত্য। জপমালার দানার মতো সাজানো এই মন্দিরে দুটি বৃত্ত রয়েছে—বাইরের বৃত্তে ৬৬টি এবং ভেতরের বৃত্তে ৪২টি মন্দির। কালনার মন্দিরে সাদা ও কালো শিবলিঙ্গের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের এক আধ্যাত্মিক প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত এই মন্দিরগুলো কেবল ধর্মীয় স্থান নয়, বরং বাংলার টেরাকোটা পরবর্তী যুগের স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। ব্রিটিশ শাসনামলে দেশীয় রাজন্যবর্গের আভিজাত্য ও শৈল্পিক নিষ্ঠার প্রমাণ দেয় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। ইতিহাসের ঘ্রাণ আর আধ্যাত্মিক শান্তি পেতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করেন পূর্ব বর্ধমানের এই দুই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে। বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *