১. ৫০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়েও কিছুই পেলেন না! স্বাস্থ্যবিমার এই ফাঁদ জানেন তো?

NEWS DESK : প্রতি বছর নিয়ম করে মায়ের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতেন এক যুবক। কঠিন সময়ে এই বিমাই সহায় হবে, এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু লখনউয়ের বাসিন্দা ওই যুবকের দাবি, মায়ের অসুস্থতার সময় বিমা সংস্থার দ্বারস্থ হয়েও চরম হতাশ হতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘক্ষণ দপ্তরে বসিয়ে রাখার পর শেষমেশ তার ক্লেম বা দাবি নাকচ করে দেয় স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালায়েড ইনস্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, বিমা সংস্থার এক এজেন্ট তাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, তাদের পরামর্শ না নিয়ে পলিসি কেনায় এই বিপত্তি ঘটেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিমা পরিষেবার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্রিমিয়াম নেওয়ার সময় সংস্থাগুলো যতটা তৎপর থাকে, টাকা দেওয়ার বেলায় ততটাই উদাসীন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেটিজেনদের একাংশ একে ‘কাগজের প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
পাল্টা বিবৃতিতে স্টার হেলথ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমার দাবি মেটানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নথিপত্র ও গ্রাহকের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি পলিসি কেনার সময় কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী ক্লেম বাতিল করা হতে পারে। তবে দপ্তরের কর্মীদের দুর্ব্যবহার বা এজেন্টের মন্তব্য নিয়ে সংস্থাটি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমা করার সময় সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করলে বা এজেন্টের ওপর অন্ধবিশ্বাস রাখলে এমন আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যদি কোনো গ্রাহকের ক্লেম অন্যায্যভাবে বাতিল হয়, তবে তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থার গ্রিভ্যান্স সেলে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। সেখানে সমাধান না মিললে বিমা ওম্বাডসম্যান বা উপভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায়। ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যবিমা বাজারে গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা এবং সঠিক নথিবদ্ধকরণই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।