ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য, ৭ এআরও সাসপেন্ড হতেই মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল শুভেন্দুর

NEWS DESK : রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (AERO) সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করে নির্বাচন কমিশন এই কড়া পদক্ষেপের কথা জানায়। এই নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন। অভিযোগ উঠেছে, কমিশনের গাইডলাইন অগ্রাহ্য করে ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট ও প্যান কার্ড ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, “মুখ্যসচিবকে দিয়ে এই পুরো চক্রটি চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।” শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্দেশে এবং জেলাশাসকদের চাপে এই এআরও-রা অবৈধ কাজ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, অন্যান্য রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যায় না, কিন্তু বাংলায় বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যসচিবরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে সমস্ত ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে পাঠান।
কমিশনের তালিকায় নাম থাকা ৭ জন এআরও-র মধ্যে রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডু, সুতির শেখ মুর্শিদ খান, ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায়চৌধুরি, সামশেরগঞ্জের সেফাদুর রহমান, ফরাক্কার নীতিশ দাস এবং ডেমরার দেবাশিস বিশ্বাস। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নবান্ন পদক্ষেপ না করায় কমিশন পুনরায় কড়া বার্তা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভোটার তালিকায় এই কারচুপি মূলত একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কমিশনের এই হস্তক্ষেপে রাজ্যের নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।