রেকর্ড ভেঙে বিএনপির ঐতিহাসিক জয় এবং জামায়াতের উত্থান: নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
_0.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
NEWS DESK : ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় হাসিল করেছে বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের রেকর্ড ভেঙে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সাফল্য এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের একটি স্থিতিশীল সরকারের আকাঙ্ক্ষা এবং সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি জনআবেগ এই বিপুল জয়ে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সিংহভাগ সমর্থন বিএনপির পক্ষে আসায় এই বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ৩১.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই তাদের সেরা সাফল্য। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মাঠের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। হিন্দুদের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ঠেকাতে কৌশলগতভাবে বিএনপিকে বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-৩ এর মতো এলাকাগুলোতেও এবার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ ভারতবিরোধী ও রক্ষণশীল ভোটারের সংহত সমর্থন জামায়াতকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। অতীতে ক্ষমতায় না থেকেও এমন অভাবনীয় জনসমর্থন পাওয়ার নজির বিরল। ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘না’ ভোট প্রদান এবং সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে জনমতের ভিন্নতা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বিশাল জনমতের প্রতিফলন আগামী দিনে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কতটা স্থিতিশীলতা আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।