তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদীকে ঢাকার আমন্ত্রণ ঘিরে দানা বাঁধছে জল্পনা

NEWS DESK : প্রতিবেশী বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতে চলেছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক আঞ্চলিক ও বিশ্বনেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো। কূটনৈতিক মহলে এই বিশাল আয়োজনকে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঢাকা সফর নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে মোদীর। ফলে ব্যস্ত সূচির কারণে তার সশরীরে উপস্থিত থাকা অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি বা শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এক ফোনালাপে তারেক রহমানকে নির্বাচনী জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও উন্নয়নের পথে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। গত আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতার মসনদে ফিরছে বিএনপি, যেখানে ৬৮টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন ও নতুন সরকারের গঠন নিয়ে গভীর কৌতূহল তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ভঙ্গুর নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে।