তদন্তে গাফিলতি আর ফরেনসিক রিপোর্টের অভাব, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের সাজাপ্রাপ্তকে মুক্তি দিল হাইকোর্ট

NEWS DESK : নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের তদন্তে একাধিক গুরুতর গাফিলতি এবং অকাট্য প্রমাণের অভাবে দীর্ঘ ৯ বছর জেল খাটার পর বেকসুর মুক্তি পেলেন শেখ জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক রিপোর্ট নিম্ন আদালতে পেশই করেনি পুলিশ।
ঘটনাটি ২০০৮ সালের, যখন পূর্ব মেদিনীপুরের এক সাত বছরের নাবালিকার দেহ কংসাবতী নদী থেকে উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বীর্যের নমুনার সাথে ভুক্তভোগীর শরীর থেকে পাওয়া নমুনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি অপরাধের সময় ব্যবহৃত কোনো পোশাকও জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়নি।
হাইকোর্টের মতে, শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। জাহাঙ্গীর নিজেই নাবালিকার পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তাকে বাজারে দেখেছিলেন—যা কোনো অপরাধীর স্বাভাবিক আচরণ নয়। উপযুক্ত মেডিক্যাল এভিডেন্স এবং ফরেনসিক ল্যাবরেটরি রিপোর্টের অনুপস্থিতিতে নিম্ন আদালতের রায়কে ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য করেছে উচ্চ আদালত। ফলে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।