রাহুল গান্ধীর একটি ফোনে বদলে গেল পাশা, ইস্তফা প্রত্যাহার ভূপেন বোরার

আসামের রাজনীতিতে বড় নাটক! প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বোরা সোমবার সকালে মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। নিজের অবহেলার অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলো।
ঘটনার নেপথ্যে যা ঘটেছে
সকালে ইস্তফা দেওয়ার খবর চাউর হতেই আসামের কংগ্রেস মহলে হুলস্থুল পড়ে যায়। আসামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জিতেন্দ্র সিং এবং গৌরব গোগোই তড়িঘড়ি বোরার বাসভবনে পৌঁছান। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ রাহুল গান্ধী এবং কেসি বেণুগোপাল ফোন করেন ভূপেন বোরাকে। দীর্ঘ আলোচনার পর বরফ গলে এবং তিনি ইস্তফা প্রত্যাহারে সম্মত হন।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
জিতেন্দ্র সিং জানান, “ভূপেনজি আমাদের অত্যন্ত বর্ষীয়ান নেতা। পরিবারের মধ্যে মাঝে মাঝে মান-অভিমান হয়, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি পুনরায় প্রচারের দায়িত্ব সামলাতে রাজি হয়েছেন।” অন্যদিকে, গৌরব গোগোই বোরার ক্ষোভের কথা স্বীকার করে জানান, দলের কোনো সিদ্ধান্তে তিনি আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তারা ক্ষমাপ্রার্থী।
কেন ক্ষুব্ধ ছিলেন বোরা?
২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন ভূপেন বোরা। সম্প্রতি তাঁর জায়গায় গৌরব গোগোলেকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি নিজেকে অবহেলিত মনে করছিলেন। দীর্ঘ ৩২ বছর দলের সাথে যুক্ত থাকা এই নেতা জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে নয় বরং দলের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বোরার এই প্রত্যাবর্তন কংগ্রেসের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইস্তফা প্রত্যাহারের পর ভূপেন বোরা জানিয়েছেন, হাইকমান্ডের অনুরোধে তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন। আপাতত অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি কংগ্রেসের হয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন।