বাজেট ২০২৬ মধ্যবিত্তের পকেটে টান নাকি অমৃত কালের নতুন দিগন্ত

NEWS DESK : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ ঘোষিত হয়েছে এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে ভারত দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছে। সরকার এই বাজেটকে ‘অমৃত কাল’-এর ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে তুলে ধরেছে, যার মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি। জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং ডিজিটাল সংযোগে বিপুল বরাদ্দ দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় অঙ্কের প্রণোদনা বিশ্ব বাজারে ভারতের অবস্থান শক্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই ঝকঝকে পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের প্রতিফলন কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজেটে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হলেও চাহিদা বৃদ্ধির কৌশলে ঘাটতি দেখা গেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য আয়কর বা অন্য কোনো বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা না করায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত রয়ে গেছে। যদিও ১৭টি ক্যানসার ও বিরল রোগের ওষুধ শুল্কমুক্ত করা এবং ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে স্বস্তি দেবে, তবুও এলপিজি ও কিছু নিত্যপণ্যের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ এবং উচ্চ-মূল্যের ফসলে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বৈষম্যের চিত্রটি প্রকট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষের আয় স্থবির। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চেয়ে পুঁজি-নির্ভর প্রবৃদ্ধিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। অবকাঠামো ও শিল্পের চাকায় গতি এলেও সাধারণের পকেটে তার সুফল পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই বাজেট পরিকাঠামো নির্মাণে সাহসী হলেও সাধারণ ভোক্তার চাহিদা ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে কিছুটা নীরব। প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই হবে সরকারের আসল পরীক্ষা। বিনিয়োগের এই জোয়ার যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে না পারে, তবে ‘অমৃত কাল’-এর লক্ষ্য পূরণ অধরাই থেকে যেতে পারে।