এক দিনেই রেকর্ড আবেদনপত্র জমা পড়ল যুবসাথী প্রকল্পে, এবার ঘরে বসেই পাবেন মাসে ১৫০০ টাকা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ‘যুবসাথী’ ঘিরে রাজ্যের যুবসমাজের মধ্যে নজিরবিহীন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই অফলাইনে ৫.৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে এক অনন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ভিড়ের চাপ সামলাতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রশাসন রবিবার রাত থেকেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও চালু করে দিয়েছে।
অনলাইনে আবেদনের সহজ পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা এখন সরাসরি সরকারি পোর্টাল https://apas.wb.gov.in-এ গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। পোর্টালে থাকা ‘বাংলার যুবসাথী’ (Banglar Yuvasathi) সেকশনে গিয়ে ‘Apply Online’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে, যার মাধ্যমে লগ-ইন করে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যাবে।
কারা আবেদনের যোগ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যোগ্যতার মাপকাঠিগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- বয়স: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণি) পাশ করা বাধ্যতামূলক।
- প্রয়োজনীয় নথি: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, জাতিগত শংসাপত্র (থাকলে), সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সাদা কাগজে করা স্ক্যান করা স্বাক্ষর।
প্রকল্পের বিশেষ সুবিধা ও শর্তাবলি
রাজ্যের যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, যারা ইতিপূর্বেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবশ্রী’র মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য বিবেচিত হবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। যারা এখনও আবেদন করেননি, তাদের মনে রাখতে হবে যে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।