আপনার জমানো সোনা কি ব্যাংকেও সুরক্ষিত নয়? ৩.৫ কোটির গয়না নিয়ে ডেপুটি ম্যানেজারের চম্পট

আপনার জমানো সোনা কি ব্যাংকেও সুরক্ষিত নয়? ৩.৫ কোটির গয়না নিয়ে ডেপুটি ম্যানেজারের চম্পট

বেঙ্গালুরুতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যে ব্যাংক লকারকে আমরা নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়স্থল বলে মনে করি, সেখান থেকেই গায়েব হয়ে গেল কোটি কোটি টাকার সোনা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চুরির নেপথ্যে কোনো বাইরের ডাকাত নয়, বরং খোদ ব্যাংকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ডেপুটি ম্যানেজার জড়িত।

জুয়ার নেশায় অন্ধ হয়ে গ্রাহকের আমানতে থাবা

তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত ডেপুটি ম্যানেজার অনলাইন জুয়ার নেশায় মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিলেন। সেই নেশার টাকা জোগাড় করতেই তিনি ব্যাংকের লকার থেকে প্রায় ২.৭৮ কিলোগ্রাম সোনা সরিয়ে ফেলেন। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা। অত্যন্ত চতুরতার সাথে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখে তিনি লকার থেকে গ্রাহকদের গয়না বের করে নেন এবং একটি গোল্ড লোন সংস্থায় সেগুলি বন্ধক রেখে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন।

যেভাবে পর্দাফাঁস হলো এই জালিয়াতির

ব্যাংকের বার্ষিক অডিট বা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সময় প্রধান ম্যানেজারের নজরে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। স্টক এবং নথিপত্র মেলাতে গিয়ে দেখা যায় যে, লকারে গচ্ছিত সোনার হিসেবে বড়সড় গরমিল রয়েছে। তড়িঘড়ি গিরিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে এবং মূল পাণ্ডা হিসেবে ওই ডেপুটি ম্যানেজারকে চিহ্নিত করে।

পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, আত্মসাৎ করা সমস্ত টাকা তিনি জুয়া খেলায় উড়িয়ে দিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, তবে বাকি সোনার হদিশ পেতে এখনো অভিযান চলছে।

ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

এই ঘটনার পর বেঙ্গালুরু পুলিশ এবং ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা সাধারণ গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লকার ভাড়ায় নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা উচিত নয়। আপনার মূল্যবান সম্পদ ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যবধানে সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে লকার পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, লকার ব্যবহারের সময় ব্যাংকের নিয়মাবলী এবং বিমার বিষয়টি নিয়েও গ্রাহকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *