বিরোধীদের গোঁড়ায় বসে বিনাশ করব, হাসপাতাল থেকে ফিরেই হুঙ্কার ভগবন্ত মানের

পাঞ্জাবে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে ‘যুদ্ধ নেশার বিরুদ্ধে ২.০’ অভিযানের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। মোহালির ফোর্টিস হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোগার বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বিরোধীদের শিকড়ে গিয়ে বসব এবং এই বিষাক্ত চক্র ধ্বংস করব।”
মাদক নির্মূলে নতুন কৌশল
মোগার কিল্লি চাহলান গ্রামে আয়োজিত এই র্যালিতে আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়াও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাধারণ মানুষকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথবাক্য পাঠ করান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রাম ও ওয়ার্ড স্তরে বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। মাদক পাচারকারীদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপও চালু করেছে সরকার, যাতে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন থাকে।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
বিজেপি, কংগ্রেস এবং শিরোমণি আকালি দলকে নিশানা করে মান বলেন, “আগে পাঞ্জাব তার খেলোয়াড়দের জন্য পরিচিত ছিল, কিন্তু গত সরকারগুলো এই রাজ্যকে মাদকের আড্ডায় পরিণত করেছে।” নাম না করে আকালি দল নেতা বিক্রম সিং মজিঠিয়াকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আদালত থেকে জামিন পাওয়া সহজ, কিন্তু ওপরওয়ালার কাছে কোনো ছাড় নেই।” যারা এখনো এই অপরাধে যুক্ত থেকে আস্ফালন করছেন, তাদের সরাসরি ‘খুনি’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
কেজরিওয়ালের প্রতিশ্রুতি
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সভায় ঘোষণা করেন, পাঞ্জাবের প্রতিটি গ্রামে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেবে সরকার। তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে বহু বড় মাদক পাচারকারীর বাংলোয় বুলডোজার চালানো হয়েছে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারত না। মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে যুবকদের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টিও দেন তিনি।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ
- প্রতিটি গ্রামে ভিলেজ ডিফেন্স কমিটি (VDC) গঠন।
- মাদক পাচারকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও আইনি ব্যবস্থা।
- ৬০ হাজার সরকারি চাকরির মাধ্যমে যুবশক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনা।
- খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে রাজ্যজুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন।