২০৪৭-এর রোডম্যাপ থেকে অপারেশন সিন্দুর—বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বিরোধীদের তুলোধোনা করলেন মোদী

নয়াদিল্লি: ২০৪৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিরক্ষা থেকে অর্থনীতি, কিংবা নারীশক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্বতন সরকারের ‘কুশাসন’ এবং বর্তমান সরকারের ‘সুধার এক্সপ্রেস’-এর পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। পিটিআই-কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ১০টি জ্বলন্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ভারতের বদলে যাওয়া চালচিত্র তুলে ধরেন।
অর্থনীতির ইঞ্জিন ‘সুধার এক্সপ্রেস’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউপিএ সরকারের আমলে থমকে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তিগুলি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ৩৮টি দেশের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) রয়েছে, যা রফতানি দ্বিগুণ করেছে। তাঁর মতে, এটি কেবল শুল্ক ছাড় নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি কাঠামোগত পরিবর্তন।
রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট ও অপারেশন সিন্দুর
এবারের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ ভারতের অজেয় সংকল্পের প্রতীক। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি এখন ২৩,০০০ কোটিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের নাম না করে তিনি জানান, ভারত যুদ্ধের পথে হাঁটবে না, তবে যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম।
নারীশক্তিই উন্নত ভারতের কারিগর
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নারীদের ‘বিকশিত ভারত’-এর ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পূর্বতন সরকারগুলি নারীদের উপেক্ষা করলেও বর্তমান বাজেটে তাঁদের শিক্ষা, আবাসন এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্টেম (STEM) হোস্টেল থেকে শুরু করে মুদ্রা যোজনা—সবই নারীদের মূলস্রোতে আনার হাতিয়ার।
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের ১০টি মূল পয়েন্ট:
- MSME-তে জোয়ার: ক্ষুদ্র শিল্প এখন রফতানির অগ্রভাগে, যা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
- পরিকাঠামো উন্নয়ন: ২০১৩ সালের তুলনায় মূলধনী ব্যয় ৫ গুণ বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
- ডিজিটাল ইন্ডিয়া: তথ্য সুরক্ষা আইন ও ডেটা সেন্টার তৈরির মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের ‘ডেটা হাব’ করার পরিকল্পনা।
- দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবা: ডিবিটি এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট চিরতরে নির্মূল করা হয়েছে।
- উৎপাদন বিপ্লব: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সৌজন্যে রফতানি ৩৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিরোধীদের লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারগুলোর নীতি ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা, আর আমাদের নীতি হলো স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার।” ২০২৬-২৭-এর বাজেটকে তিনি ২১ শতকের ভারতের জন্য একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।