নিজের দলেই কি গুরুত্ব হারাচ্ছেন রাহুল? বিজেপি নেতাদের তীব্রে আক্রমণে অস্বস্তিতে কংগ্রেস

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল থেকে শুরু করে খোদ কংগ্রেসের অন্দরেই কি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে? সোমবার বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এবং প্রদীপ ভাণ্ডারীর মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, রাহুল গান্ধী একজন ‘ব্যর্থ বংশধর’ এবং তাঁর ওপর না আছে দলের নেতাদের ভরসা, না আছে জোটসঙ্গীদের বিশ্বাস।
কেন কোণঠাসা রাহুল গান্ধী?
বিজেপি এই আক্রমণের নেপথ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে হাতিয়ার করেছে:
- ভূপেন বোরার পদত্যাগ: আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বোরা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে এবং রাজ্যে তাঁকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।
- মণি শঙ্কর আইয়ারের মন্তব্য: প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার সম্প্রতি দাবি করেছেন যে কেরলে কংগ্রেস হারবে এবং পিনারাই বিজয়ন পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবেন। যদিও কংগ্রেস তাঁর এই মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে গিয়েছে, তবে বিজেপি একে হাতিয়ার করে রাহুলের নেতৃত্বের অভাবকে তুলে ধরছে।
- তৃণমূলের অবস্থান: তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই ‘রাহুল হঠাও, মমতা আনো’ স্লোগান তোলা হচ্ছে, যা ইন্ডি জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
বিজেপির তীক্ষ্ণ বাণ
বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, রাহুল গান্ধীর না আছে জনমত, না আছে সঙ্গীদের সমর্থন। অন্যদিকে প্রদীপ ভাণ্ডারীর দাবি, কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে থাকা অনুগত নেতারাও এখন রাহুলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। তাঁর মতে, মণি শঙ্কর আইয়ার থেকে শুরু করে ভূপেন বোরা—সবাই এখন রাহুলের নেতৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন।
রাহুল গান্ধীকে ঘিরে বিজেপির এই ‘ব্যর্থ বংশধর’ তকমা এবং দলের অন্দরের এই ডামাডোল আগামী দিনে কংগ্রেসের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এখন সেটাই দেখার।