আপনার আঙুলের ছাপ কেন বিশ্বের আর কারও সাথে মেলে না, জানলে অবাক হবেন

NEWS DESK : আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রতিটি মানুষের এক অনন্য পরিচয়। যমজ সন্তানদের ডিএনএ এক হলেও তাদের আঙুলের ছাপ কখনোই এক হয় না। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি মূলত ‘মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল ইনহেরিটেন্স’ বা জিন এবং পরিবেশের এক জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফল। গর্ভাবস্থার ১০ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের গর্ভে ভ্রূণ থাকা অবস্থায় এই বিশেষ রেখাগুলো তৈরি হতে শুরু করে। ত্বকের উপরিভাগ বা এপিডার্মিস এবং গভীর স্তর বা ডার্মিসের ভিন্ন গতির বৃদ্ধির ফলে আঙুলের ডগায় এই অনন্য ভাঁজ বা খাঁজ সৃষ্টি হয়।
এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয় গর্ভাবস্থার ৬-৭ সপ্তাহের দিকে যখন ভ্রূণের আঙুলের ডগায় ‘ভোলার প্যাড’ বা চর্বির আস্তরণ তৈরি হয়। পরবর্তীকালে এই প্যাডগুলোর বৃদ্ধি থমকে গেলেও আঙুল বাড়তে থাকে, যার ফলে ত্বকের বেসাল লেয়ারে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপের কারণেই চামড়ার নিচে লুপ, আর্চ বা ঘূর্ণির মতো বিচিত্র সব প্যাটার্ন গঠিত হয়। মজার বিষয় হলো, ভ্রূণটি জরায়ুর ভেতরে ঠিক কীভাবে অবস্থান করছে বা অ্যামনিওটিক তরলের চাপ কেমন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই রেখাগুলো নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে।
একবার এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি হয়ে গেলে সারাজীবনে তার মৌলিক প্যাটার্ন আর কখনোই পরিবর্তিত হয় না। এমনকি অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রেও গর্ভে তাদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থান ও নড়াচড়ার ভিন্নতার কারণে আঙুলের ছাপ আলাদা হয়ে যায়। ভোলার প্যাডের আকার এবং ত্বকের স্তরে চাপের তারতম্য প্রতিটি আঙুলের জন্য ভিন্ন হওয়ায় এটি মানুষের একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্থায়ী স্বাক্ষর হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাকৃতিক এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার কারণেই কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ থাকে একেবারে স্বতন্ত্র।