অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনা কি নিছকই এক ট্র্যাজেডি নাকি বড় কোনো ষড়যন্ত্র?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অজিত পাওয়ারের রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। গত ২৮ জানুয়ারি বারামতি বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে ভেঙে পড়া সেই অভিশপ্ত বিমানটির ‘জন্মকুণ্ডলী’ বা নাড়িনক্ষত্র এবার প্রকাশ্যে আনতে চলেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। প্রাথমিক তদন্তে এই দুর্ঘটনার পেছনে বড় কোনো নাশকতার ইঙ্গিত মেলায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিমানের উড্ডয়ন ক্ষমতা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
তদন্তকারী সংস্থা AAIB (এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো) এবং DGCA যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে যে, ভিএসআর (VSR) নামক বেসরকারি সংস্থার ওই বিমানটি আদেও ওড়ার যোগ্য ছিল কি না। বিমানের ‘এয়ারওয়ার্থিনেস’ বা আকাশপথে যাতায়াতের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ অজিত পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ ও এনসিপি বিধায়ক রোহিত পাওয়ার। তিনি সরাসরি এই ঘটনায় ‘ঘাতপাত’ বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন।
তদন্তের রাডারে যা যা রয়েছে
- বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা: ঘটনার সময় বিমানটির ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক কতটা সচল ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- কাগজপত্রের সত্যতা: ভিএসআর ভেঞ্চারস নামক সংস্থাটির নথিপত্র এবং রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট দফতর।
- ব্ল্যাক বক্সের তথ্য: দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাক বক্সটি বর্তমানে তদন্তকারীদের হেফাজতে। এর ভেতরের ডিজিটাল ডেটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, যা থেকে পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন এবং বিমানের গতিবিধি জানা যাবে।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি
রোহিত পাওয়ার এই তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের কোনো বিশেষজ্ঞ বা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করানোর দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার পেছনে এমন কিছু শক্তি কাজ করছে যারা অজিত পাওয়ারকে রাজনৈতিক পথ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট দ্রুত জনসমক্ষে আনা হবে।
আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিমানটির অপারেশনাল কন্ডিশন বা উড্ডয়ন সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়তে পারে। সেই রিপোর্টেই হয়তো লুকিয়ে আছে ২৮ জানুয়ারির সেই অভিশপ্ত সকালের আসল রহস্য। অজিত পাওয়ারের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার এমন মর্মান্তিক পরিণতি কি সত্যিই যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে অন্য কোনো সত্য, তা জানতে এখন গোটা দেশ মুখিয়ে আছে।