মাত্র ৬০ মিনিটেই ভোলবদল! রাহুলের এক ফোনেই কি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ফেরালেন ভূপেন বরা?

আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক নাটক। সোমবার দুপুরে হঠাৎই কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে হাত শিবিরে বড়সড় কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিলেন ভূপেন কুমার বোরা। কিন্তু সেই নাটকীয়তার রেশ কাটতে না কাটতেই এল উল্টো সুর। দিল্লির হাইকম্যান্ডের হস্তক্ষেপে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন এই প্রবীণ নেতা।
৩২ বছরের সম্পর্কে হঠাৎই চিড়
টানা ৩২ বছর ধরে কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করার পর এদিন সকালে সংগঠনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ভূপেন বোরা। তিনি স্পষ্ট জানান, সাম্প্রতিক কিছু পরিস্থিতির কারণে তিনি দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গুয়াহাটির রাজনৈতিক অলিন্দে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এই সুযোগে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েননি।
রাহুলের ফোন এবং গৌরব গগৈদের তৎপরতা
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ময়দানে নামেন খোদ রাহুল গান্ধী। দলীয় সূত্রে খবর, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোনে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন বোরার সঙ্গে। পাশাপাশি, এআইসিসি ইন-চার্জ জিতেন্দ্র সিং, গৌরব গগৈ, প্রদ্যুৎ বোরদোলুই এবং অখিল গগৈ সরাসরি বোরার গুয়াহাটির বাসভবনে গিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে মিটল মান-অভিমান
জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ভূপেন বোরার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার পরেই তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করতে রাজি হন। গৌরব গগৈও নিশ্চিত করেছেন যে, আপাতত দলের অন্দরে মান-অভিমান মিটেছে এবং বোরা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তবে এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামা নিয়ে ভূপেন বোরা নিজে এখনও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারিভাবে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচনের আগে এই ঘরোয়া বিবাদ মিটিয়ে কংগ্রেস কি পারবে বিজেপির মোকাবিলা করতে, এখন সেটাই দেখার।