হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে বিতর্কিত মামলার জল গড়াল হাইকোর্টে, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

গুয়াহাটি/নয়াদিল্লি: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে আজ বড়সড় পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি বিতর্কিত ভিডিও এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, সোমবার তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এখনই রেহাই পাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মামলাকারীদের গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে।
আদালতে ঠিক কী ঘটল?
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, কেন মামলাকারীরা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এলেন এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হননি। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আপনাদের হাইকোর্টে যেতে বাধা কোথায়? যদি না আপনারা মনে করেন যে হাইকোর্টও একটি রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।”
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বর্তমানে নির্বাচনী লড়াইয়ের একটি বড় অংশ শীর্ষ আদালতে টেনে আনার প্রবণতা বাড়ছে, যা মোটেও কাম্য নয়। হাইকোর্টের আইনি ক্ষমতাকে ছোট করে দেখা উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
বিতর্কের মূলে কোন ভিডিও?
ওডিশা বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে বন্দুক হাতে লক্ষ্যস্থির করতে দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, ওই ভিডিওর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘মিয়া মুসলিম’ সম্প্রদায়কে নিয়ে হিমন্তের লাগাতার মন্তব্য ঘিরেও সরব হয়েছিল বিরোধীরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নয় বরং অনুপ্রবেশকারীদের লক্ষ্য করেই ওই বক্তব্য পেশ করেছেন।
হাইকোর্টের জন্য বিশেষ বার্তা
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি খারিজ করার পাশাপাশি গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মামলাকারীরা সেখানে আবেদন করলে যেন দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। ফলে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি লড়াই এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে স্থানান্তরিত হয়ে উত্তর-পূর্বের সবচেয়ে বড় আদালতে পৌঁছাল।