সন্তানের জেদ আর সব কথায় ‘না’ বলার অভ্যাসে অতিষ্ঠ? জেনে নিন সামলানোর জাদুকরী কৌশল

কৈশোর মানেই অবাধ্যতা আর একরাশ নিজস্ব মতামত। যে সন্তান এক সময় আপনার আঙুল ধরে চলত, সেই এখন ছোট ছোট বিষয়ে তর্ক জুড়ে দিচ্ছে বা সব কিছুতেই ‘না’ বলছে? বয়ঃসন্ধির এই সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব বাড়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই দূরত্ব যখন দেওয়ালে রূপ নেয়, তখনই বাড়ে দুশ্চিন্তা। বকাঝকা বা শাসনের পুরনো পদ্ধতি এই বয়সে হিতে বিপরীত হতে পারে। জেনে নিন আপনার সন্তানকে সঠিক পথে ফেরানোর এবং সম্পর্ক সহজ করার কিছু কার্যকর উপায়।
কেন জেদি হয়ে ওঠে কিশোর মন?
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের মধ্যে হরমোনজনিত পরিবর্তনের পাশাপাশি নিজস্ব পরিচয় তৈরির এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। এই সময়ে তারা সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত শাসন বা খবরদারি তাদের কাছে শৃঙ্খল মনে হয়। সেই অস্বস্তি থেকেই জন্ম নেয় জেদ আর অবাধ্যতা।
মারধর বা বকাঝকা নয়, চাই বন্ধুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান কথা না শুনলে মেজাজ হারানোই স্বাভাবিক। কিন্তু চিৎকার বা মারধর করলে তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়। এতে তারা আরও বেশি অন্তর্মুখী বা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। শাসন করার আগে তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। সে কেন এমন আচরণ করছে, তার পিছনে কোনো চাপা দুঃখ বা ক্ষোভ আছে কি না, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
মতামতকে গুরুত্ব দিন
আপনার সন্তান এখন আর শিশু নেই। তাই তার ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তার কথা মন দিয়ে শুনুন। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে শান্ত মাথায় যুক্তি দিয়ে কথা বলুন। তাকে অনুভব করতে দিন যে তার মতামতেরও পরিবারে গুরুত্ব আছে। এতে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়বে এবং আপনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরবে।
বাড়ির পরিবেশ ও তুলনার রাজনীতি
সন্তানের জেদ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অন্যের সঙ্গে তুলনা করা। “অমুকের ছেলে এটা পারল, তুমি পারলে না কেন?”—এই ধরণের কথা কিশোর মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করে। বাড়ির পরিবেশ যদি সব সময় অশান্ত থাকে বা বড়রা সারাক্ষণ একে অপরকে দোষারোপ করেন, তবে সন্তানও সেই আচরণই শিখবে। তাই সন্তানকে বদলানোর আগে বাড়ির পরিবেশকে আনন্দময় ও ইতিবাচক করে তুলুন।
কৈশোরের এই অস্থির সময়টা ধৈর্য ধরে পার করতে পারলেই আপনার সন্তানের সঙ্গে গড়ে উঠবে এক অটুট বন্ধুত্বের সম্পর্ক। মনে রাখবেন, শাসন দিয়ে নয়, ভালোবাসা আর সঠিক বোঝাপড়া দিয়েই জয় করা সম্ভব সন্তানের মন।