বিবাহের প্রতিশ্রুতি ও শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে যুগলদের সতর্কবার্তা সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত একে অপরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়—বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্কের একটি মামলার শুনানিতে সোমবার এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিয়ের আগে নারী ও পুরুষ উভয়েরই শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আদালতের মতে, আইনি পরিণতির চেয়েও বড় বিষয় হলো নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচার করা।
মামলাটির সূত্রপাত হয় এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে। অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবক তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এমনকি তাঁরা একসঙ্গে দুবাই ভ্রমণেও গিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগরত্ন প্রশ্ন তোলেন, সম্পর্ক যতই গভীর হোক না কেন, বিয়ের আগে কেন ওই তরুণী যুবকের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে গেলেন। আদালত মনে করে, বর্তমানে অনেকের কাছে এই চিন্তাধারা সেকেলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনের আগে সংযম বজায় রাখা জরুরি।
শীর্ষ আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এটি পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। অভিযুক্তকে কেবল ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি এখানে নেই বলে মনে করছেন বিচারপতিরা। ফলে আইনি জটিলতা দীর্ঘায়িত না করে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তরুণীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন উভয় পক্ষকে বিষয়টি মীমাংসার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে শীর্ষ আদালত মূলত তরুণ প্রজন্মকে আবেগের বশবর্তী হয়ে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বনের বার্তা দিয়েছে।