ভারমুক্ত ফুটবলে বিতর্ক বনাম প্রযুক্তির নির্ভুলতা, কোন পথে আধুনিক ফুটবল?

ফুটবল কি প্রযুক্তির হাতে বন্দি হচ্ছে নাকি নির্ভুল সিদ্ধান্তের প্রয়োজনে এটি অপরিহার্য? সম্প্রতি নিউক্যাসল ইউনাইটেড বনাম অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচে ভিএআর (VAR) না থাকায় গোল এবং পেনাল্টি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। গ্যালারি থেকে শুরু করে স্টুডিও পর্যন্ত রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সমর্থকদের একাংশ কিন্তু গোল হওয়ার পর তাৎক্ষণিক উদযাপনের আদিম রোমাঞ্চ ফিরে পেয়ে খুশি। প্রযুক্তি না থাকায় ভিএআর-এর দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই খেলার স্বাভাবিক গতি ও আবেগ বজায় ছিল, যা অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে নিখুঁত সিদ্ধান্তের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
উয়েফার রেফারিং প্রধান রবার্তো রোসেত্তি সতর্ক করেছেন যে, ফুটবল যেন অতিরিক্ত ‘আনুবীক্ষণিক’ বিশ্লেষণের শিকার না হয়। তাঁর মতে, অফসাইডের মতো তথ্যভিত্তিক বিষয়ে প্রযুক্তি কার্যকর হলেও, হ্যান্ডবলের মতো ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করছে। বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে লা লিগা ও বুন্দেসলিগার মতো বড় আসরগুলোতে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ফুটবল বিশ্ব। একদিকে চাওয়া হচ্ছে শতভাগ নির্ভুলতা, অন্যদিকে দাবি উঠছে ফুটবলের সহজাত গতি ও মানবিক ভুলকে খেলার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার।
ভবিষ্যতে কর্নার বা দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রেও ভিএআর চালু করার প্রস্তাব থাকলেও রোসেত্তি মনে করেন, এতে খেলা বারবার থমকে গিয়ে ফুটবলের তীব্রতা ও আবেগ হারিয়ে ফেলবে। শেষ পর্যন্ত বিতর্ক ফুটবল থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, কারণ হ্যান্ডবলের মতো নিয়মের ব্যাখ্যা বিভিন্ন লিগে ভিন্ন রকম হয়। নিখুঁত যান্ত্রিক ফুটবল নাকি ভুলভ্রান্তি মেশানো আবেগময় লড়াই—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই সম্ভবত ফুটবলকে তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ ফুটবল শুধু ফলাফল নয়, এটি একটি চিরন্তন আবেগ যা কোনো লেন্স দিয়ে মাপা সম্ভব নয়।