বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে সতর্কতা প্রয়োজন, মামলার শুনানিতে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে সতর্কতা প্রয়োজন, মামলার শুনানিতে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সংসর্গ এবং পরবর্তীকালে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইঞাঁর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ— উভয় পক্ষকেই চরম সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অপরিচিত কাউকে বিয়ের আগে বিশ্বাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় হয়। অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই ব্যক্তি তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীকালে দুবাই ভ্রমণেও যান। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং সম্প্রতি পুনরায় বিবাহ করেছেন। এমনকি অভিযোগকারিণীর সম্মতি ছাড়াই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বিভি নাগরত্ন কিছুটা রক্ষণশীল সুরেই বলেন, “হয়তো আমরা একটু সেকেলে, কিন্তু বিয়ের আগে একে অপরের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ঠিক নয়। সম্পর্ক যতই গভীর হোক, বিয়ের আগে এই ধরনের ঘনিষ্ঠতায় জড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ভাবা উচিত।” আদালত আরও উল্লেখ করে যে, যদি কেউ বিয়ে নিয়ে এতটাই দৃঢ় থাকেন, তবে বিয়ের আগে দুবাই সফরের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সমীচীন ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্মতিসূচক সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি দণ্ড বা আইনি বিচারই একমাত্র সমাধান নয়। পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে মধ্যস্থতার পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বেঞ্চ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *