মহুয়া মৈত্রর এফআইআর নিয়ে পুলিশের অতি-সক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট, সাংসদ বলেই কি এত তৎপরতা?

মহুয়া মৈত্রর এফআইআর নিয়ে পুলিশের অতি-সক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট, সাংসদ বলেই কি এত তৎপরতা?

তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্রর করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ‘অস্বাভাবিক’ দ্রুত পদক্ষেপ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। জনৈক ঋষি বাগড়ির করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্রের ইমেল মারফত অভিযোগ পাওয়ার পর যেভাবে পুলিশ তত্পরতা দেখিয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তিনি জানতে চান, অভিযোগকারী একজন প্রভাবশালী সাংসদ বলেই কি সাধারণ মানুষের তুলনায় পুলিশ এখানে বেশি সক্রিয় হলো?

মামলার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের পদক্ষেপ

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র কোতোয়ালি থানায় একটি ইমেল পাঠান। সেখানে তিনি দাবি করেন, ঋষি বাগড়ি নামের এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিকর এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের নয়ডার বাসভবনে পৌঁছে যায়। এই নজিরবিহীন দ্রুততা নিয়েই মূলত আইনি বিতর্কের সূত্রপাত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ত্রুটি

অভিযুক্ত ঋষি বাগড়ির আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেন, তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে সশরীরে থানায় গিয়ে সেই অভিযোগে স্বাক্ষর করতে হয়। কিন্তু মহুয়া মৈত্রর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম পালন করা হয়নি। তা সত্ত্বেও পুলিশ কীভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করল, তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “সাধারণ মানুষের অভিযোগের ক্ষেত্রেও কি পুলিশ একই রকম তৎপরতা দেখায়? নাকি অভিযোগকারী একজন শাসক দলের সাংসদ বলেই এত দ্রুত পদক্ষেপ করা হলো?” আদালতের মতে, নিয়মের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রভাবশালী পদের খাতিরে পুলিশের এই বিশেষ সুবিধা দেওয়াটা মোটেই কাম্য নয়।

হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ঋষি বাগড়ির বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করতে পারবে না। আপাতত তাঁর গ্রেফতারির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে হাইকোর্ট।

প্রশাসনের এই ভূমিকা কি সাধারণ নাগরিক এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে দিচ্ছে? আদালতের এই কঠোর মন্তব্য সেই বিতর্ককেই উস্কে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *