তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কি তবে ‘স্বর্ণযুগ’ শেষের পথে? এআই-এর দাপটে অশনি সংকেত দেখছেন ইঞ্জিনিয়াররা

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে আশঙ্কার মেঘ। একসময় সায়েন্স, জয়েন্ট এন্ট্রান্স আর ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল মধ্যবিত্তের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চিত পথ। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে বেঙ্গালুরু—হাজার হাজার মেধাবী তরুণের কর্মজীবনের ভিত্তি ছিল এই আইটি সেক্টর। তবে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান উত্থান সেই সাজানো বাগানে যতিচিহ্ন বসাতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাইক্রোসফট ও ওপেনএআই-এর মতো শীর্ষ কর্তাদের দাবি, আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রোজেক্ট ম্যানেজার থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মতো ‘হোয়াইট কলার’ কাজগুলো এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম হবে।
পরিসংখ্যানও এই উদ্বেগকে মান্যতা দিচ্ছে। দেশের শীর্ষ পাঁচটি আইটি সংস্থায় চলতি অর্থবর্ষের প্রথম নয় মাসে নিট নিয়োগের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সাময়িক মন্দা নয়, বরং আইটি শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এআই টুলের ব্যবহারের ফলে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা ক্রমশ কমছে। আইআইটি কানপুরের এআই বিশেষজ্ঞ সুজয় কংসবণিকের মতে, আইটি সেক্টর এখন এক বড় মোড়ে দাঁড়িয়ে। বর্তমানে ‘ক্লড’ বা ‘কারসার’-এর মতো এআই টুল ব্যবহার করে প্রাথমিক কোডিং করা গেলেও ভবিষ্যতে এআই আরও নিখুঁত হয়ে উঠবে।
ভবিষ্যতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার ধরন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন, কয়েক বছর পর তাদের জন্য চাকরির বাজার এখনকার মতো সহজলভ্য থাকবে না। ফ্রেশারদের নিয়োগ কমে আসা সেই সত্যেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে কেবল কোডিং জানলে চলবে না, বরং এআই সংক্রান্ত উন্নত প্রশিক্ষণ ও এর সঠিক ব্যবহার শেখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নতুবা প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে পেশাদারদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।