তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়? বাংলাদেশে কি এবার শুরু হচ্ছে ছায়া মন্ত্রিসভার যুগ

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে ক্ষমতার অলিন্দে এখন সবথেকে আলোচিত বিষয় হলো ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান আস্থাহীনতার মাঝেই এই বিকল্প শাসন ব্যবস্থার ধারণাটি জোরালো হচ্ছে। প্রবাসে থেকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা নিয়ে খোদ রাজনৈতিক মহলেই উঠছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী এবং এটি কীভাবে দেশের ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী
মূলত ওয়েস্টমিনিস্টার শাসন ব্যবস্থায় ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি হলো বিরোধী দলের একটি নির্দিষ্ট প্যানেল, যারা সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি চালায়। প্রতিটি সরকারি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দলের একজন ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ বা ছায়া মন্ত্রী থাকেন। তাদের মূল দায়িত্ব হলো সরকারের নীতিগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং জাতীয় সমস্যার বিকল্প ও উন্নত সমাধান জনগণের সামনে পেশ করা।
তারেক রহমান ফ্যাক্টর ও বর্তমান সংকট
তারেক রহমান দীর্ঘকাল ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। বিএনপির একটি বড় অংশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্ম তার নেতৃত্ব নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। অতীতের দুর্নীতি ও বংশপরম্পরাগত রাজনীতির উত্তরাধিকার থেকে বেরিয়ে এসে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ রাজনীতির দাবি তুলছেন বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের একক আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে একটি পেশাদার ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তাব সামনে আসছে।
ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব ও ভূমিকা
- সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা: বর্তমান প্রশাসন যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করা।
- বিকল্প নীতি প্রণয়ন: অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দল কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা জনগণের কাছে তুলে ধরা।
- ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি: আগামী জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে একটি শিক্ষিত, প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন এবং দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি
বাংলাদেশ বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অতীতে ‘বিজয়ী পক্ষই সব ভোগ করবে’—এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশে বারবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। ছায়া মন্ত্রিসভার প্রবক্তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থা অন্ধ বিরোধিতার বদলে গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি তৈরি করবে। এই নতুন মেরুকরণ কি তারেক রহমানকে কোণঠাসা করে দেবে, নাকি তাকে নিজের দল আধুনিকায়ন করতে বাধ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে প্রশাসনিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।