বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দক্ষিণ এশিয়ায় কি এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমবার। ঢাকার বঙ্গভবনে আয়োজিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক বিশেষ কূটনৈতিক চমক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শেখ হাসিনা পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের এই পটপরিবর্তনের মুহূর্তে কাঠমান্ডুর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে এক গভীর কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বঙ্গভবনে নেপালের উপস্থিতি এবং কৌশলগত তাৎপর্য
বিশ্বের বড় শক্তিগুলো যখন ঢাকার নতুন প্রশাসনের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নেপালের পক্ষ থেকে এই সংহতি প্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘বিকল্প ব্লক’ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। প্রথাগত আঞ্চলিক ক্ষমতার বলয়ের বাইরে বেরিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সংযোগ এখন মূল লক্ষ্য
ঢাকা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ভারতসহ ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য চুক্তি। নেপালের বিশাল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা একে অপরের পরিপূরক। শপথ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, নতুন সরকার এই বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী। অনুষ্ঠানের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নেপাল কর্তৃক বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুবিধা এবং নতুন বাণিজ্য পথ সম্প্রসারণ নিয়ে প্রাথমিক কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন মোড়?
শপথ অনুষ্ঠানে প্রথম সারির বিদেশি অতিথি হিসেবে নেপালের অংশগ্রহণ একটি সূক্ষ্ম কিন্তু বলিষ্ঠ বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব তাদের বৈদেশিক নীতিতে বৈচিত্র্য আনতে বদ্ধপরিকর। নেপালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঢাকা তার আঞ্চলিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষিণ এশীয় পরিচয় গড়ে তুলতে আগ্রহী।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নতুন মন্ত্রিসভার এই পথচলায় ‘নেপাল-বাংলাদেশ’ ফ্যাক্টরটি এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে।