গ্রেটার নয়ডায় শিউরে ওঠা দুর্ঘটনা! জমা জঞ্জাল আর প্রশাসনের অবহেলাই কি কেড়ে নিল ৩ বছরের শিশুর প্রাণ

প্রশাসনের চরম উদাসীনতা আর এক পরিত্যক্ত ডোবার মরণফাঁদে অকালে ঝরে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণ। সোমবার গ্রেটার নয়ডায় ৩ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও ওই বিপদজনক জলাশয়টি পরিষ্কার বা ঘেরার ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খেলার ছলে মৃত্যুর মুখে শিশুটি
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে বাড়ির বাইরে খেলা করছিল বছর তিনেকের ওই শিশুটি। খেলতে খেলতেই সে গ্রামের এক প্রান্তে থাকা ওই পরিত্যক্ত ডোবাটির কাছে চলে যায়। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় ডোবাটি কচুরিপানা, আগাছা আর আবর্জনায় এমনভাবে ঢেকে ছিল যে, তার গভীরতা বা কিনারা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। অসাবধানতাবশত পা পিছলে শিশুটি সেই পচা জলের গভীরে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার ও মর্মান্তিক পরিণতি
বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ডোবার নোংরা জলে শিশুটির নিথর দেহ ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে শোকের স্তব্ধতা নেমে আসে, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় গণবিক্ষোভে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই ডোবাটি দীর্ঘকাল ধরে একটি ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঝোপঝাড় আর জঞ্জালের কারণে সেখানে গবাদি পশু থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য সবসময় ঝুঁকি ছিল। বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে এটি পরিষ্কার করার এবং চারপাশ ঘিরে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করে দায়ি আধিকারিকদের শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশি তৎপরতা
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের এই চরম গাফিলতি একটি পরিবারের বুক খালি করে দিল, যা ফের আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে জননিরাপত্তার কঙ্কালসার চেহারাকে।