৩৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ লাখ আবেদন! বাংলার ‘যুবসাথী’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

৩৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ লাখ আবেদন! বাংলার ‘যুবসাথী’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

কলকাতা: মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ লাখ আবেদন! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুবসাথী’ ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মাসে ১৫০০ টাকার ভাতার জন্য রাজ্যের ২৯৪টি ক্যাম্পে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের লম্বা লাইন এখন রাজনৈতিক তরজার প্রধান অস্ত্র।

আবেদনের জোয়ারে রেকর্ড

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেড় দিনেই আবেদনের পাহাড় জমেছে। সবথেকে এগিয়ে মুর্শিদাবাদ, সেখানে আবেদন জমা পড়েছে ৭৭,৭৯০টি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংখ্যাটি ৪৯,৪৪৯ এবং বাঁকুড়ায় ৪৮,১২২। এমনকি খাস কলকাতাতেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছেন। অনেক জায়গায় সকাল সাড়ে আটটা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের।

বিজেপির কড়া আক্রমণ

যুবকদের এই দীর্ঘ লাইনকে ‘বেকারত্বের জীবন্ত দলিল’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান নেই বলেই শিক্ষিত যুবকরা মাত্র ১৫০০ টাকার জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটি বাংলার জন্য ট্র্যাজেডি।” অনলাইন পোর্টাল ছেড়ে কেন শারীরিক উপস্থিতিতে ক্যাম্প করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পদ্ম শিবির।

পাল্টা জবাব তৃণমূলের

তৃণমূল কংগ্রেস এই সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ‘মানবিক উদ্যোগ’। রাজ্যের মন্ত্রীদের পাল্টা যুক্তি, কেন্দ্র বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে বাংলার সরকার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ট্রানজিশনাল সাপোর্ট’ বা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা দিচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের এই বিপুল সাড়া এবং রাজনৈতিক সংঘাত বাংলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ইস্যুকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *