লক্ষ্মীর ভান্ডারে ‘কাটমানি’ চক্র: আউশগ্রামে ৩ সিভিক ভলান্টিয়ার বরখাস্ত, জালে বিডিও অফিসের কর্মী

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩০ জন যুবতীকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন সিভিক ভলান্টিয়ারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও অফিসের এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর। কিন্তু আউশগ্রাম-১ ব্লকের দরিয়াপুর এবং এড়াল এলাকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে কম বয়সী যুবতীদের নাম উপভোক্তা তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা কমিশনের বিনিময়ে এই বেআইনি কাজ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জালিয়াতির মূল কারিগর হিসেবে বিডিও অফিসের ওই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যোগসাজশ রাখা আউশগ্রাম থানার তিন সিভিক ভলান্টিয়ারকে ইতিমধ্যে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন না। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো আপস করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।