এআই সামিটে পাহাড়ি পদের রাজকীয় ভোজ, তাজ প্যালেসের ডাইনিংয়ে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ আগত বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য রাজকীয় আতিথেয়তার আয়োজন করেছে রাজধানীর অভিজাত হোটেল তাজ প্যালেস। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সমান্তরালে অতিথিদের সামনে ভারতের সমৃদ্ধ রন্ধনশৈলী তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে এক অনন্য ভোজতালিকা। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রদ্যুমন সিং রাঠোর জানিয়েছেন, ‘অতিথি দেবো ভব’ প্রথা মেনে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, তিলক এবং তুলসীমালা দিয়ে প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে।
এই বিশেষ সম্মেলনের মূল আকর্ষণ হলো উত্তর ভারতের পাহাড়ি জনপদের বিলুপ্তপ্রায় এবং ঐতিহ্যবাহী পদসমূহ। এক্সিকিউটিভ শেফ নিতিন মাথুর আধুনিক যন্ত্রপাতির পরিবর্তে শিলনোড়া ও পিতলের বাসনের মতো প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্নার খাঁটি স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংগৃহীত মশলা এবং পুষ্টিকর মিলেট বা শস্যজাত খাদ্যের প্রাধান্য এই মেনুটিকে করে তুলেছে অনন্য।
ভোজতালিকায় রয়েছে ‘দিংরি কাচরু’, যা অয়েস্টার মাশরুম ও ফারমেন্টেড ময়দার এক সুস্বাদু রোল। নিরামিষ পদের মধ্যে ‘সেপু ওয়াড়ি’ এবং সুগন্ধি ‘কালা মোতি গুচ্ছি পোলাও’ বিশেষ নজর কেড়েছে। এছাড়াও রয়েছে পোড়া কাঁঠাল ও বেগুনের যুগলবন্দিতে তৈরি ‘কাঁঠাল বেগুন ভর্তা’ এবং হিমাচলি কায়দায় রান্না করা রসালো ‘ভুন্নু মুর্গ’। রুটির তালিকায় কুলুর বিখ্যাত ‘গোলা পরোটা’ এবং মালানার ঐতিহ্যবাহী ‘মালেরা রুটি’ স্থান পেয়েছে।
মিষ্টির আয়োজনেও ছিল পাহাড়ের ছোঁয়া। লাহোরের বিশেষ মিষ্টান্ন ‘সিয়াল কাটলু’ এবং চাম্বার জাফরান-গুড়ের রসে ভেজানো ‘বদানা পার্লস’ অতিথিদের তৃপ্ত করেছে। প্রযুক্তির এই মহামিলন মেলায় ভারতের প্রাচীন রন্ধন ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন এক অভিনব আবহ তৈরি করেছে, যা বিশ্বমঞ্চে দেশের সাংস্কৃতিক শিকড়কে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করছে।