রাজ্যে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে দুই দিনে আবেদন জমা পড়ল সাড়ে ১৩ লক্ষ

রাজ্যে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে দুই দিনে আবেদন জমা পড়ল সাড়ে ১৩ লক্ষ

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষিত বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার হিড়িক সেই বাস্তব চিত্রকেই জনসমক্ষে নিয়ে এল। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ তরুণ-তরুণীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে দেখা গেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণ অভিভাবকদেরও তাঁদের সন্তানদের হয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে, যা কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে ১,৬০৪টি শিবিরে মোট ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫০ জন মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ‘যুবসাথী’ বা বেকার ভাতার জন্যই রাত ৮টা পর্যন্ত ১৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৩৬টি আবেদন জমা পড়েছে। শিবিরের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে; অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আবেদনকারীর সংখ্যা যেখানে ৭ লক্ষ ছিল, দিনের শেষে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে সাড়ে ১৩ লক্ষের গণ্ডি স্পর্শ করেছে।

জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে আবেদনের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য তারতম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে সর্বাধিক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, পাহাড়ি জেলা কালিম্পং থেকে আবেদনের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং খেতমজুর ভাতার মতো অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ মানুষ এই দুই প্রকল্পের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। শিক্ষিত যুবসমাজের এই বিপুল অংশগ্রহণ রাজ্যে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *