সোনম ওয়াংচুকের ভাষণের ভুল অনুবাদ, সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে কেন্দ্রের ‘এআই’ যুক্তি

লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) আটক করার মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা ভাষণের অনুবাদ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শুনানির সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের যে অনুবাদ আদালতে পেশ করা হয়েছে, তা মূল বক্তব্যের চেয়ে দীর্ঘ এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওয়াংচুকের আসল বক্তব্য ছিল তিন মিনিটের, অথচ সরকার পক্ষ সাত-আট মিনিটের একটি অনুবাদ জমা দিয়েছে।
ওয়াংচুকের আইনজীবী প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে দাবি করেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনশন মঞ্চে দেওয়া একটি ভাষণের ভুল অনুবাদের ওপর ভিত্তি করেই এই আটকের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সিবাল প্রশ্ন তোলেন, ওয়াংচুক কোথাও সরকার উৎখাতের কথা বলেননি, বরং তিনি বরাবরই হিংসার নিন্দা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আটক করার আদেশের কিছু অংশ নেহাতই ‘কপি-পেস্ট’ এবং এতে কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ চিন্তাভাবনার অভাব স্পষ্ট।
জবাবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, সংশ্লিষ্ট ভাষা আইনজীবীর জানা না থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর মাধ্যমে করা অনুবাদ সাধারণত নির্ভুল হয়। এর পাল্টা সিবাল কৌতুকের ছলে জানান যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আদালতের উচিত প্রকৃত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা, কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো অভিযোগ নয়। কেন্দ্র অবশ্য দাবি করেছে, লেহ-তে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনায় ওয়াংচুকই ছিলেন মূল প্ররোচনাকারী এবং তাঁকে আটকের পরেই পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রীর পক্ষ থেকে এই আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলা হয়েছে, তিনি সর্বদা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় অনশন শুরু করা কোনোভাবেই হিংসাত্মক কাজ হতে পারে না। আদালত আপাতত কেন্দ্রের দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে এগোচ্ছে।