অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পরপরই তড়িঘড়ি ৭৫ স্কুলকে সংখ্যালঘু তকমা, ফড়নবীসের নির্দেশে স্থগিতাদেশ

অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পরপরই তড়িঘড়ি ৭৫ স্কুলকে সংখ্যালঘু তকমা, ফড়নবীসের নির্দেশে স্থগিতাদেশ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেওয়া এক ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় আকস্মিক প্রয়াণের ঠিক পরেই রাজ্যের ৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তড়িঘড়ি ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এবার সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ৭৫টি স্কুলকে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ২৮ জানুয়ারি দুপুর ৩টে ৯ মিনিটে প্রথম সার্টিফিকেটটি ইস্যু করা হয়েছিল— ঠিক যে দিন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অজিত পওয়ার। ওই একই দিনে মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানকে এই তকমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী তিন দিনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫-এ।

তদন্তের মুখে সংখ্যালঘু দপ্তর

তৎকালীন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন খোদ অজিত পওয়ার। বর্তমানে এই দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরই উত্তরসূরি তথা বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। অনিয়মের অভিযোগ ওঠামাত্রই সুনেত্রা পওয়ার আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতগুলি অনুমোদন, অনুদান বা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তার সবকটি আপাতত স্থগিত থাকবে। উচ্চপর্যায়ের তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে:

  • এই অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছিল কি না।
  • সংখ্যালঘু তকমা দেওয়ার ওপর আগে থেকে থাকা কোনো নিষেধাজ্ঞা কি নিয়ম বহির্ভূতভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল?

সরব বিরোধী শিবির

এই ঘটনায় সরব হয়েছেন এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) নেতা রোহিত পওয়ার। তাঁর মতে, শুধুমাত্র স্থগিতাদেশ যথেষ্ট নয়, এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান পেয়ারে খান বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং সিআইডি (CID) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *