তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব, শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ওম বিড়লা

তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব, শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ওম বিড়লা

ঢাকা: বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ তিন দশক পর নারী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে দেশের মসনদে বসছেন একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। আজ বিকেলে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বঙ্গভবন নয়, শপথ হবে সংসদ চত্বরে

বিগত কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে এবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। আজ দুপুরেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিকেল ৪টে নাগাদ মূল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের জন্য বিএনপির বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন ওম বিড়লা

তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি এবং লোকসভার মহাসচিব উৎপল কুমার সিং। আন্তর্জাতিক মহলের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোটের পরিসংখ্যান ও নতুন সমীকরণ

গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়ে। এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে তারেক রহমানের বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াত-ই-ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন।

তিন দশক পর নতুন অধ্যায়

১৯৯১ সালের পর এই প্রথম কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলাদেশ। গত ৩০ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতা মূলত বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার হাতেই আবর্তিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। ইউনূসের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সেই সম্পর্কে কতটা উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *