ভাঙতে চলেছেন বহু বছরের পুরনো প্রথা, আজ বাংলাদেশের মসনদে বসছেন তারেক রহমান

এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বাংলাদেশে। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর আজই দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন তিনি। তবে এবারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনন্য নজির। প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত হচ্ছে এই রাজকীয় অনুষ্ঠান।
শপথ গ্রহণের সময়সূচী
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে। এরপর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে। সবশেষে দুপুর নাগাদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
উপস্থিত থাকছেন বিদেশি রাষ্ট্রনেতারা
তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা পৌঁছেছেন একাধিক দেশের প্রতিনিধি। ভারতের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সঙ্গে থাকছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং লোকসভার মহাসচিব উৎপল কুমার সিং। এ ছাড়াও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজ্জু, তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনসি এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর নলিন্দা জয়তিসা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯১ সালের পর তিনিই হতে চলেছেন দেশটির প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।