হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন বিরোধীরা

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথিত ‘মুসলিম বিরোধী’ মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় আজ হস্তক্ষেপ করতে সরাসরি অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ‘শর্টকাট’ নেওয়া চলবে না।
সুপ্রিম কোর্টে কেন ধোপে টিকল না আবেদন
সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজা এবং আসামের বিশিষ্ট পণ্ডিত ড. হীরেন গোহাইনরা হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ এবং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়েছে, এই বিষয়ে মামলাকারীদের প্রথমেই গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাওয়া উচিত ছিল। সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসাকে আদালত ‘ফোরাম শপিং’ বা সুবিধামতো আদালত বেছে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী এ.এম. সিংভি যুক্তি দেন যে, আসামে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া কঠিন। তবে প্রধান বিচারপতি এই যুক্তি খারিজ করে বলেন, হাইকোর্টের এক্তিয়ারকে খাটো করে দেখা একটি ভুল প্রবণতা। তিনি মন্তব্য করেন, “সবকিছুর জন্য সুপ্রিম কোর্ট খেলার মাঠ হতে পারে না।”
বিবাদের মূলে কী রয়েছে
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল:
- বিতর্কিত ভিডিও: আসাম বিজেপির শেয়ার করা একটি ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ, যেখানে ‘নো মার্সি’ বা ‘দয়া নেই’ শব্দগুলো লেখা ছিল।
- ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বয়ান: অভিযোগ উঠেছে যে, হিমন্ত বিশ্বশর্মা জনসভায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ ‘মিঞা’ (মুসলিম) ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। একইসঙ্গে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে মামলাটি গুরুত্ব সহকারে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শোনা হয়। আদালত রাজনৈতিক দলগুলোকেও সাংবিধানিক নৈতিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।