লুইটেন্স দিল্লির বুক থেকে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, সেন্ট্রাল ভিস্তার দাপটে ভাঙা পড়ছে নির্মাণ ও উদ্যোগ ভবন

লুইটেন্স দিল্লির বুক থেকে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, সেন্ট্রাল ভিস্তার দাপটে ভাঙা পড়ছে নির্মাণ ও উদ্যোগ ভবন

নয়াদিল্লি: ইতিহাসের সাক্ষী ছিল গত ৬২ বছর। অটল বিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে সুষমা স্বরাজ— বহু দিকপাল রাজনীতিবিদের কর্মস্থল ছিল এই চত্বর। কিন্তু মোদি সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের মেগা পরিকল্পনায় এবার ধুলোয় মিশতে চলেছে দিল্লির আইকনিক ‘নির্মাণ ভবন’ এবং ‘উদ্যোগ ভবন’। ইতিমধ্য়েই আটতলা এই বিশাল ইমারত ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ডাইনোসরের মতো সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ১৭টি বুলডোজার।

মজবুত দেওয়ালও কি সংস্কার করা যেত না?

নির্মাণকাজের বরাত পাওয়া সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার অতুল শ্রীবাস্তব নিজেই মেনে নিয়েছেন যে, সামান্য কার্নিশ ছাড়া গোটা বিল্ডিংটি যথেষ্ট মজবুত ছিল। একটু সংস্কার করলেই আরও অন্তত ৫০ বছর অনায়াসেই পরিষেবা দিতে পারত এই ভবনগুলি। অথচ সেই চেনা স্থাপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে ৩ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলেছে নতুন কেন্দ্রীয় সচিবালয়।

বিপন্ন প্রকৃতি এবং কর্মহীন সাধারণ মানুষ

শুধুমাত্র ইট-পাথরের স্থাপত্যই নয়, এই প্রকল্পের কোপে পড়তে চলেছে বহু বছরের পুরনো নিম, আম, দেবদারু ও পলাশ গাছগুলিও। পরিবেশের পাশাপাশি সবথেকে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে মৌলানা আজাদ রোডের ফুটপাতে ব্যবসা করা সাধারণ মানুষদের ওপর। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমল থেকে বংশপরম্পরায় সেখানে চা-নাস্তা বিক্রি করে পেট চালাতেন সুরেশ কুমার বা রাহুলরা। সামনেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয় তৈরি হওয়ায় ‘নিরাপত্তা’র দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এই দোকানগুলিকেও।

বিস্মৃতির অতলে বহু স্মৃতি

একসময় যে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেতেন করণ সিং, গুলাম নবি আজাদ বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মন্ত্রীরা, আজ সেখানে কেবল বাঁদরের চিৎকার আর ভাঙা ইটের স্তূপ। নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের মতো ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঠিকানা পাকাপাকিভাবে বদলে যাচ্ছে। রাজধানীর মানচিত্র থেকে এক লহমায় মুছে যাচ্ছে কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *