বিডিওর ঘরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর, মালদহে চাঞ্চল্য

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিডিও অফিসে সোমবার এক চরম নাটকীয় এবং উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে পাকা ঘরের দাবিতে বিডিও তাপস কুমার পালের চেম্বারে ঢুকে বিষপান করেন শুকতারা বিবি (৪৫) নামের এক গৃহবধূ। এই ঘটনায় ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা গিয়েছে, ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্ণাহী গ্রামের বাসিন্দা শুকতারা বিবির নাম প্রাথমিকভাবে সরকারি আবাসন প্রকল্পের তালিকায় ছিল। তবে প্রশাসনিক ‘সুপার চেকিং’-এর সময় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, তদন্তে ওই মহিলার আগে থেকেই একটি পাকা বাড়ির অস্তিত্ব মেলায় তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। কিন্তু নিজের দাবিতে অনড় থেকে সোমবার বিডিও অফিসে পৌঁছান তিনি।
বিডিওর চেম্বারে যা ঘটল
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ বিডিওর ঘরের বাইরে অপেক্ষা করার পর অবশেষে কথা বলার সুযোগ পান শুকতারা বিবি। ঘরের দাবি নিয়ে বিডিওর সঙ্গে বাদানুবাদের মাঝেই আচমকা সঙ্গে আনা বিষ খেয়ে ফেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিডিও অফিসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। তড়িঘড়ি জয়েন্ট বিডিও সোনাম ওয়াংদি লামা তাঁকে নিজের গাড়িতে তুলে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর মালদহের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ওই মহিলার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জেলাশাসক আরও জানান, এসডিও-কে দিয়ে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিডিও তাপস কুমার পাল বা ওই মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তে মহিলার পাকা বাড়ির হদিশ মিললেও, বিডিওর ঘরে এমন চরম পদক্ষেপের পিছনে অন্য কোনও কারণ বা গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।