মোদীর বিকল্প কি মমতা? মনমোহন-ঘনিষ্ঠের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

দীর্ঘদিন পর দেশের মসনদে বসতে চলেছেন কোনো মহিলা প্রধানমন্ত্রী? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারুর সাম্প্রতিক মন্তব্যে এমনই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধীর পর আর কোনো মহিলাকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে দেখা যায়নি। তবে সঞ্জয় বারুর মতে, সেই সময় এবার সমাগত। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কাণ্ডারি হিসেবে তিনি সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছেন।
বারুর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে নতুন মুখ এবং নতুন ভাবনার প্রয়োজন। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁর মতে, দেশের রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লেও শীর্ষ নেতৃত্বে পুরুষদেরই প্রাধান্য বেশি। এই ধারা ভাঙতে তৃণমূল সুপ্রিমোকেই যোগ্য মনে করছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হলেও জানানো হয়েছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
অস্বস্তিতে কংগ্রেস: মণি শঙ্কর আইয়ারের তোপ
একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চর্চা চলছে, অন্যদিকে খোদ কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়েছে চরম গৃহযুদ্ধ। প্রবীণ নেতা মণি শঙ্কর আইয়ারের একের পর এক মন্তব্যে কার্যত নাজেহাল হাত শিবির। কেরলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জিততে পারবে না বলে আগাম ভবিষ্যৎবাণী করে বসেছেন তিনি। উল্টে প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের।
ক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতৃত্ব আইয়ারের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। আইয়ার সরাসরি পবন খেরাকে ‘পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেন এবং জয়রাম রমেশের মতো হেভিওয়েট নেতাদেরও রেয়াত করেননি। এমনকি শশী তারুর বিদেশমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলেও বিদ্রূপ করেন তিনি। সব মিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্যে ফাটল নাকি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।