দেশবাসীর হাতেই নিজের সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারের ভার দিয়ে বিদায় নিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছিল, তাকে সচল রাখাই ছিল তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এই যাত্রায় তিনি কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তিনি সাধারণ দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার আমলকে ‘দৈত্যের গ্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শাসনকাল পর্যালোচনায় মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অচল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে তাঁর সরকার ১৩০টি নতুন আইন প্রণয়ন ও সংস্কার করেছে। জারিকৃত ৬০০টি নির্দেশনার মধ্যে ইতোমধ্যে ৮৪ শতাংশ কার্যকর হয়েছে। দেশে একটি ‘আদর্শ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। লুটপাটে জড়িতরা পালিয়ে গেলেও দেশ এখন অগ্রগতির পথে ধাবমান। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিদায় নিলেও দেশ গড়ার কাজে সাধারণ নাগরিক হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ইউনূস। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর দায়বদ্ধতা ফুরিয়ে যায়নি। ভাষণের শেষে তিনি এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।