লগ্ন বাঁচাতে মৃত্যুভয় উপেক্ষা, সাপের কামড় খেয়েও সোজা বিয়ের পিঁড়িতে বীরভূমের সুব্রত

বীরভূম: এ যেন আধুনিক যুগের ‘বেহুলার ভাসান’। তবে এখানে কলার ভেলা নয়, অ্যাম্বুলেন্স আর অ্যান্টিভেনমই হলো প্রাণরক্ষার কবজ। বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগেই সাপের কামড় খেয়েছিলেন পাত্র, কিন্তু লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার অভিশাপ থেকে কনেকে বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সম্পন্ন করলেন বিয়ে।
ঘটনাপ্রবাহ
বীরভূমের লাভপুরের দোনাইপুর গ্রামের সুবীর সাহার ছেলে সুব্রতর বিয়ে ছিল পূর্ব বর্ধমানের মুরাতিপুরের ঈশিতার সঙ্গে। শনিবার সন্ধ্যায় বরযাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে নুতনহাট ব্রিজের কাছে প্রকৃতির ডাকে গাড়ি থেকে নামেন সুব্রত। গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই পায়ে তীব্র জ্বালা অনুভব করেন তিনি। আলো জ্বেলে দেখা যায়, পায়ের পাতায় সাপের দাঁতের গভীর ক্ষত এবং রক্তপাত।
হাসপাতাল থেকে ছাদনাতলা
আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত সুব্রতকে মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় বিষক্রিয়া ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ অ্যান্টিভেনম দেওয়া শুরু করেন। এদিকে বিয়ের আসরে তখন কান্নার রোল। কনে ঈশিতা মনে মনে প্রার্থনা শুরু করেন লগ্নরক্ষার। ৩ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা মানবিক খাতিরে ‘বন্ড’ সই করিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সুব্রতকে ছাড়পত্র দেন।
শেষ ভালো যার
অসুস্থ শরীর নিয়েই বিয়েবাড়িতে পৌঁছান সুব্রত। দ্রুত চার হাত এক করে নিয়ম রক্ষা করা হয়। সিঁদুর দান শেষ হতেই ফের তাঁকে নিয়ে ছোটানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোববার সুস্থ হয়ে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। সোমবার ধুমধাম করে সম্পন্ন হলো তাঁদের বৌভাত।
সুব্রতর কথায়, “সমাজ আজও লগ্নভ্রষ্টা মেয়েদের ভালো চোখে দেখে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” অন্যদিকে চিকিৎসকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নবদম্পতি বলছেন, ভগবানের আশীর্বাদ আর চিকিৎসকদের তৎপরতাতেই এই যাত্রা রক্ষা পেলেন তাঁরা।