ভারতে কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান, কেন ১৭ ফেব্রুয়ারি টেলিস্কোপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ভারতে কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান, কেন ১৭ ফেব্রুয়ারি টেলিস্কোপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক: হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম ও সবথেকে পবিত্র মাস রমজান শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ভারতে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে রোজা। তবে এবারের রমজান শুরুর আগে চাঁদ দেখা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (IAC)।

রমজান ২০২৬ এবং ভারতে সম্ভাব্য তারিখ

ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, রমজান মাসের সূচনা হয় বাঁকা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যদি আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়, তবে বুধবার থেকে শুরু হবে পবিত্র উপবাস। সাধারণত সৌদি আরবে চাঁদ দেখার একদিন পর ভারতে রমজান শুরু হয়। এই মাসের শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পালিত হবে খুশির ইদ-উল-ফিতর, যা আগামী ১৯ বা ২০ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেলিস্কোপ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি টেলিস্কোপ বা দূরবীন দিয়ে চাঁদ দেখার চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওইদিন সূর্য ও চাঁদের অবস্থান অত্যন্ত কাছাকাছি থাকবে। ফলে টেলিস্কোপ দিয়ে তাকালে সরাসরি সূর্যের তীব্র রশ্মি চোখে পড়ে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই খালি চোখে চাঁদ দেখার চিরাচরিত প্রথা বজায় রাখাই এ বছর সবথেকে নিরাপদ।

রমজানের মাহাত্ম্য ও পালনীয় বিধি

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো রোজা। এই এক মাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের চর্চা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

  • সেহরি: সূর্য ওঠার আগে গ্রহণ করা খাবার।
  • ইফতার: সূর্যাস্তের পর উপবাস ভঙ্গের আয়োজন।
  • মূল লক্ষ্য: শুধু না খেয়ে থাকা নয়, বরং মিথ্যা, অন্যায় ও পাপাচার থেকে মনকে দূরে রাখাই এই মাসের মূল উদ্দেশ্য।

কাদের জন্য শিথিলতা রয়েছে

ইসলামিক বিধান অনুযায়ী সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক সকলের জন্য রোজা বাধ্যতামূলক হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তি, ভ্রমণকারী, শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সুস্থ হওয়ার পর বা সুবিধাজনক সময়ে এই রোজাগুলো পূর্ণ করে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

পবিত্র এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রার্থনা, দান-ধ্যান (জাকাত) এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজানের শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন উৎসবের আমেজে পালিত হবে খুশির ইদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *