ট্রাম্পের ভয়েই কি মুম্বই উপকূলে ইরানের ৩ জাহাজ আটক করল ভারত? ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
নিউজ ডেস্ক
মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে তিনটি রহস্যময় জাহাজ বাজেয়াপ্ত করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড। Stellar Ruby, Asphalt Star এবং Al Jafzia নামের এই জাহাজগুলির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে Al Jafzia নামক জাহাজটি ইরান থেকে তেল নিয়ে জিবুতির দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই অভিযান ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য, কারণ কোস্ট গার্ড প্রাথমিক ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর দিলেও পরে তা মুছে ফেলে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘শিপ টু শিপ ট্রান্সফার’ বা মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য সরানোর অভিযোগে এদের আটক করা হয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক ফাঁকি দিতেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবৈধ লেনদেন রুখতেই কেন্দ্রীয় সরকার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা দাবি ইরানের
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছে ইরানও। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA এবং ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কো ম্পা নির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই জাহাজ বা তেলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্য কোনো দেশের পণ্য বা অবৈধ কারবার লুকোতে ইরানের নাম ব্যবহার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
কূটনীতির নতুন অঙ্ক
এই জাহাজ আটকের ঘটনাকে নিছকই উপকূলীয় নিরাপত্তা হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সখ্যতা বাড়িয়েছেন, অন্যদিকে ইরানের প্রতি সুর চরম চড়িয়েছেন। ট্রাম্পের জমানায় মার্কিন ট্যারিফ কমার সুফল পাচ্ছে ভারত। এই আবহে ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক করা দিল্লির কোনো কৌশলগত অবস্থান কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বর্তমানে তিনটি জাহাজকেই মুম্বই বন্দরে এনে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।