প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি, কে এই শেখ আবু বকর আহমেদ?

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি, কে এই শেখ আবু বকর আহমেদ?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবু বকর আহমেদ। সোমবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষা এবং সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই বৈঠকের ভূয়সী প্রশংসা করে গ্র্যান্ড মুফতিকে ‘শান্তি ও শিক্ষার দূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কে এই শেখ আবু বকর আহমেদ?

কেরল থেকে উঠে আসা শেখ আবু বকর আহমেদ বর্তমানে ভারতের দশম গ্র্যান্ড মুফতি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এই পদে আসীন হন। বিশ্বের ৫০০ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম সারিতে রয়েছে। তিনি অল ইন্ডিয়া সুন্নি জামিয়াতুল উলামার শীর্ষ নেতা এবং জামিয়া মারকাজের প্রতিষ্ঠাতা।

কেন তাঁকে ‘অনাথদের পিতা’ বলা হয়?

শেখ আবু বকর আহমেদ সমাজসেবায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ‘আবুল আইতাম’ বা ‘অনাথদের পিতা’ নামে পরিচিত। তাঁর তত্ত্বাবধানে ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষামূলক এবং মানবিক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়, যার অধীনে রয়েছে:

  • ২০০টিরও বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
  • ৩০০টির বেশি সিবিএসই স্কুল।
  • ২০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র।
  • বিপুল সংখ্যক অনাথ আশ্রম।

তিনি এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি বই লিখেছেন এবং প্রায় ২০ হাজার ধর্মীয় স্কলারকে পথ দেখিয়েছেন। কট্টরপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে তিনি সব সময়ই এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

ইয়েমেনে ফাঁসি রুখে দিয়েছিলেন তিনি

গত বছর কেরলের নার্স নিমীষা প্রিয়ার ফাঁসি রুখতে গ্র্যান্ড মুফতির ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। যখন সব রকম কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, তখন তিনি ইয়েমেনের আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং শেষ মুহূর্তে নিমীষার প্রাণরক্ষা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হলো?

বৈঠক শেষে শেখ আবু বকর আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা এবং মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল ফেলোশিপের মতো সংখ্যালঘু ছাত্রদের সহায়ক প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালাপ্পুরম সেন্টারের উন্নয়ন এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে সম্পদের সঠিক বণ্টনের দাবিও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জামিয়া মারকাজ এবং জামিয়াতুল উলামার সামাজিক কাজের প্রশংসা করে বলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করছে। সরকার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়েও উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *