ইউনূসের বিদায়ী ভাষণে ফের উত্তরপূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বার্তা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বিদায়ী ভাষণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব বোঝাতে পুনরায় ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সমুদ্রসীমা নেপাল, ভুটান এবং উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর জন্য বিশ্ব অর্থনীতির প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে। এই অঞ্চলের সম্মিলিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনার কথা তিনি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময় উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে ইউনূসের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে চীন সফরকালে এবং নেপালি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে তিনি এই অঞ্চলকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক বলয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বিবৃতি না এলেও, কূটনৈতিক স্তরে বাক্সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিদায়কালেও তিনি সেই পুরনো অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের এই ধারাবাহিক অবস্থান স্পষ্ট করে যে, তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থলবেষ্টিত রাজ্যগুলোর ট্রানজিট ও বাণিজ্যের সাথে গভীরভাবে যুক্ত দেখতে চান। যদিও তাঁর এই ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অতীতে সমালোচনার মুখে পড়েছে, তবুও বিদায়ী ভাষণে তিনি আবারও অভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করলেন। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাকে সুযোগে রূপান্তর করাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস।