দক্ষিণ চিন সাগরের ‘ড্রাগন হোল’, রহস্যময় নীল গর্তে অক্সিজেন সঙ্কট

দক্ষিণ চিন সাগরের তলদেশে অবস্থিত ‘সানশা ইয়ংলে’ বা ড্রাগন হোলকে ঘিরে দানা বাঁধছে নতুন রহস্য। সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, ৩০১.১৯ মিটার গভীর এই নীল গর্তটি গঠনশৈলীর দিক থেকে অত্যন্ত অনন্য এবং বিস্ময়কর। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্তটির উপরের প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি থাকলেও, এর গভীরে প্রাণধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কার্যত অনুপস্থিত। পরিবর্তে সেখানে মিলেছে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড, যা গভীরতম স্তরে প্রাণের অস্তিত্বকে আসাম্ভব করে তুলেছে।
ত্রিমাত্রিক মানচিত্র এবং উন্নত ডুবো রোবটের সাহায্যে চালানো জরিপে দেখা গেছে, এই গর্তটি সাধারণ খাদের মতো সোজা নয়, বরং এটি একটি বাঁকানো ফানেলের মতো। এর ভিতরের দেওয়ালগুলো ধাপে ধাপে সিঁড়ির মতো নিচে নেমে গিয়েছে, যা প্রাচীন সমুদ্রপৃষ্ঠের বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, হাজার হাজার বছর আগে প্রবাল প্রাচীরে জলের ঘূর্ণি এবং প্রাকৃতিক ধসের ফলে এই বিশালাকার গর্তটি তৈরি হয়েছিল। এর সংকীর্ণ খাঁজ এবং কক্ষ সদৃশ গঠনগুলো এখনও গবেষকদের কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা।
এক সময় ড্রাগন হোলের গভীরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলস্তরের পরিবর্তন এবং রাসায়নিক জটিলতার কারণে বর্তমানে তা জনশূন্য। গবেষকরা এখানে চুনাপাথর ও প্রবালের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন, যা এর দীর্ঘ ভৌগোলিক ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের গভীরতম নীল গর্তের তালিকায় শীর্ষস্থান না পেলেও, এর রহস্যময় অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং প্রতিকূল রসায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে সাহায্য করছে।