ভারতের এই বন্দরটি আসলে একটি ‘সোনার খনি’, যেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় দেশের অর্থনীতি

ভারতের এই বন্দরটি আসলে একটি ‘সোনার খনি’, যেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় দেশের অর্থনীতি

ভারতের বিশাল সমুদ্র উপকূলে অসংখ্য বন্দর থাকলেও একটি নির্দিষ্ট বন্দর বর্তমানে দেশের ‘ইকোনমিক গেটওয়ে’ বা অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এখন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বন্দর হিসেবে নিজের আধিপত্য কায়েম করেছে। আদানি গ্রুপের পরিচালিত এই বন্দরটি সম্প্রতি এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে।

মুন্দ্রা বন্দরের সাফল্যের খতিয়ান

আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন (APSEZ) দ্বারা পরিচালিত এই বন্দরটি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি কার্গো হ্যান্ডেল করে ভারতের প্রথম বন্দর হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০০১ সাল থেকে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়। বর্তমানে এটি কেবল একটি বন্দর নয়, বরং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) হিসেবেও পরিচিত।

কেন এটি অনন্য

মুন্দ্রা বন্দরের পরিকাঠামো বিশ্বের যেকোনো আধুনিক বন্দরের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

  • এটি সব ঋতুতে সচল থাকার উপযোগী একটি গভীর ড্রাফট বন্দর।
  • এখানে রয়েছে ভারতের বৃহত্তম কয়লা আমদানির টার্মিনাল।
  • অত্যন্ত দ্রুত পণ্য খালাস এবং পরিবহনের ব্যবস্থার কারণে এটি ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ।

কী কী পণ্য এখানে আসে

এই বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) থেকে শুরু করে সার, কৃষি পণ্য, খনিজ সম্পদ এবং ইস্পাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী আমদানি-রপ্তানি করা হয়। এছাড়া লিকুইড কার্গো এবং সামুদ্রিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও মুন্দ্রা বন্দর এখন দেশের এক নম্বর ভরসা। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে চমৎকার সংযোগ ব্যবস্থা থাকায় এই বন্দরটি ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *