পাঞ্জাব থেকে নেশার কলঙ্ক মুছতে রণহুঙ্কার কেজরিওয়াল ও মান সরকারের

NEWS DESK :
পাঞ্জাবকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে ‘উন্মাদনা’ নয়, বরং সুপরিকল্পিত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকার। মোগায় আয়োজিত ‘ভিলেজ ডিফেন্স কমিটি’র (ভিডিসি) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারগুলোর মদতে রাজ্যটি মাদকের দলিলে ডুবে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই কালো অধ্যায় মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। গত এক বছরে ২,০০০ কেজির বেশি মাদক উদ্ধার এবং বড় বড় কারবারিদের জেলবন্দি করা হয়েছে। এমনকি অপরাধীদের বিলাসবহুল প্রাসাদে বুলডোজার চালিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
মাদক নির্মূল করতে রাজ্যজুড়ে একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ‘ভিলেজ ডিফেন্স কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সেনাকর্মী এবং পঞ্চায়েত সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকছেন। তাঁদের প্রধান কাজ হলো মাদক কারবারিদের তথ্য প্রশাসনকে জানানো এবং আসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে একটি বিশেষ অ্যাপও চালু করেছে সরকার। কেজরিওয়াল দাবি করেছেন, মানুষ এখন নির্ভয়ে এগিয়ে আসছেন কারণ তাঁরা দেখছেন যে মান সরকার অপরাধীদের প্রতি বিন্দুমাত্র নমনীয়তা দেখাচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, মাদকের নেশা থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে প্রতিটি গ্রামে খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে ৬০,০০০-এর বেশি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমছে। মাদকের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে একটি ‘জন-আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করে মান বলেন, পুলিশ ও জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলে পাঞ্জাব আবার তার হারানো গৌরব বা ‘রংলা পাঞ্জাব’ ফিরে পাবে। মাদকের সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রভাবশালী বা অসাধু পুলিশ আধিকারিককেও রেয়াত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।