বিদায়বেলায় ইউনূসের গলায় ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার! সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

বিদায়বেলায় ইউনূসের গলায় ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার! সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষেও নিজের ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে সরলেন না মহম্মদ ইউনূস। বিদায়ী ভাষণে একদিকে যেমন তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তেমনই দেশের মাটিতে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর চলা ধারাবাহিক হিংসা নিয়ে বজায় রেখেছেন রহস্যজনক নীরবতা।

ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাতের ইঙ্গিত?

বিদায়ী ভাষণে ইউনূস নেপাল এবং ভুটানের পাশাপাশি ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ অংশকে এভাবে বিদেশি মঞ্চে জুড়ে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উস্কানিমূলক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আর অন্য কারোর নির্দেশে চলবে না— যা সরাসরি দিল্লির প্রতি এক কড়া বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও তিস্তা প্রকল্প

ভারতের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে ইউনূস জানিয়েছেন, চীনের সহায়তায় তিস্তা নদী প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর অত্যন্ত কাছে চীনের এই সক্রিয়তা ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এর পাশাপাশি নীলফামারীতে বিশাল আন্তর্জাতিক হাসপাতাল তৈরিতেও বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নীরবতা

পুরো ভাষণে ইউনূস নিজের শাসনকালে ঘটা সাম্প্রদায়িক হিংসা বা হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। উল্টে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক ‘আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ তাঁর আমলেই বাংলাদেশে উগ্রপন্থী ইসলামিক উত্থান এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও সমালোচিত হয়েছে।

পাকিস্তানের দিকে ঝোঁক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সেনাশক্তিকে আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন ইউনূস। তাঁর মতে, যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত। বিদায়বেলায় ইউনূসের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *