বিয়ের প্রতিশ্রুতি না কি ব্ল্যাকমেইল? সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা খারিজ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

বিয়ের প্রতিশ্রুতি না কি ব্ল্যাকমেইল? সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা খারিজ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর রায়ে এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ এবং চার্জশিট পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতে, কোনো ব্ল্যাকমেইলের জেরে নয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি অবনীশ সাক্সেনা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান।

ঠিক কী ঘটেছিল?

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক নারী অভিযোগ করেন যে, পিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় নীরজ কুমার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল, ২০২২ সালের অগস্ট মাসে বেরেলির একটি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত একাধিকবার তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এমনকি নীরজের তুতো ভাইও সেই ভিডিও দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ

মামলার নথি এবং অভিযোগকারিণীর বয়ান খতিয়ে দেখে আদালত বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পায়। বিচারপতি জানান—

  • অভিযোগকারিণী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, যে ভিডিওর মাধ্যমে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা বলা হচ্ছে, তা তিনি কোনোদিন নিজের চোখে দেখেননি।
  • এক বিবাহিত নারী দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ভয়ে বারবার বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবেন, তা যুক্তিগ্রাহ্য মনে করছে না আদালত।
  • রেকর্ড অনুযায়ী, ওই নারী ও অভিযুক্ত ২০১৭ সাল থেকে একে অপরকে চিনতেন এবং বিভিন্ন সময় পার্কে বা নিজেদের বাড়িতে দেখা করেছেন।
  • অভিযুক্তের পক্ষ থেকে পরিবারের কাউকে কোনো আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও পাঠানো হয়েছে এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ বা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও পেশ করা সম্ভব হয়নি।

চূড়ান্ত রায়

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, নথিপত্রে কোনো অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদান বা ব্ল্যাকমেইলের প্রমাণ নেই। পরিস্থিতির বিচার করলে এটি সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি হওয়া একটি সম্পর্ক বলেই প্রতীয়মান হয়। ফলে ধর্ষণের অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকায় অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক এবং তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত ফৌজদারি পদক্ষেপ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *