ভারত নিয়ে বিষোদগার করে বিদায় নিলেন ইউনূস, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে অশনি সংকেত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বিদায়বেলায় ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন মহম্মদ ইউনূস। আজই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ নেওয়ার কথা। তার ঠিক আগেই বিদায়ী ভাষণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে ইউনূসের মন্তব্য ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। কূটনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি নাম না নিলেও ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার মতো ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ইউনূসের চাঞ্চল্যকর কৌশল
নিজের শেষ ভাষণে ইউনূস নেপাল এবং ভুটানের পাশাপাশি ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক একীকরণের কথা বলেন। তিনি সাফ জানান, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো কেবল সীমান্ত নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির প্রবেশদ্বার। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল করার এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যেখানে ভারত গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কানেক্টিভিটি বাড়াতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, সেখানে ইউনূসের এই মন্তব্য ভারতের সেই পরিকল্পনাকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত বিরোধিতার সুর ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
বিদায়ী ভাষণে ইউনূস দাবি করেছেন, বাংলাদেশ এখন আর অন্য কারও নির্দেশে চলে না এবং নিজের সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর কাছে চিনা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চিনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি দিল্লির উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে নীরবতা
মজার বিষয় হলো, বিদায়ী ভাষণে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কথা বললেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চলা ধারাবাহিক নির্যাতন নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মহম্মদ ইউনূস। উল্টে জাজল ও মার্কিন বিনিয়োগের দোহাই দিয়ে ভারতকে একপ্রকার উপেক্ষা করার সুরই শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
তারেক রহমান যখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিদায়ী প্রধানের এমন ভারত-বিরোধী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।